ডায়াবেটিস মাপার মেশিনের দাম কত ২০২৫ – সেরা ব্র্যান্ড ও দাম

    ডায়াবেটিস মাপার মেশিনের দাম কত


    ডায়াবেটিস মাপার মেশিনের দাম কত এবং ডায়াবেটিক্স মাপার মেশিন কোথায় পাবেন এবং কোনটি সবথেকে ভালো মানের মেশিন এ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিতভাবে আপনাদেরকে জানাবো। তাই সম্পূর্ণ বিষয়টি জানার জন্য আমাদের এই পুরো কন্টেন্টটি পড়ুন এবং এবং কোন মডেলটি ভালো সে অনুযায়ী আপনারা পছন্দ করুন।


    ডায়াবেটিস মাপার মেশিনের দাম কত?

    বাংলাদেশে ডায়াবেটিস মাপার মেশিনের দাম ১,৫০০ টাকা থেকে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। তবে উন্নত ডিজিটাল মডেলগুলোর ক্ষেত্রে এই দাম ৬,০০০ - ১০,০০০ টাকাও হতে পারে। মেশিনের নির্ভুলতা, ব্র্যান্ড ও ফিচার অনুসারে দাম পরিবর্তিত হয়। Accu-Chek, OneTouch, GlucoDr এবং Sinocare ব্র্যান্ডের মেশিনগুলো সবচেয়ে জনপ্রিয়।


    ডায়াবেটিস স্ট্রিপের দাম

    ডায়াবেটিস মাপার জন্য স্ট্রিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি রক্তের গ্লুকোজ পরিমাণ সঠিকভাবে নির্ণয় করতে সাহায্য করে। সাধারণত ৫০টি স্ট্রিপের প্যাক ৭০০ থেকে ২,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। Accu-Chek, OneTouch, Contour Plus এবং FreeStyle ব্র্যান্ডের স্ট্রিপগুলো সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। মেশিন অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্ট্রিপ ব্যবহার করতে হয়, কারণ সব মেশিনে সব স্ট্রিপ কাজ করে না।


    ডায়াবেটিস মাপার যন্ত্রের নাম কি?

    ডায়াবেটিস মাপার যন্ত্রকে গ্লুকোমিটার বলা হয়, যা রক্তের গ্লুকোজ পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়। বাজারে বিভিন্ন ধরনের গ্লুকোমিটার পাওয়া যায়, যেমন ডিজিটাল গ্লুকোমিটার, ব্লুটুথ স্মার্ট গ্লুকোমিটার এবং নন-ইনভেসিভ গ্লুকোমিটার। জনপ্রিয় কিছু ব্র্যান্ডের গ্লুকোমিটার হলো Accu-Chek Active, OneTouch Select Simple, GlucoDr Auto, Sinocare Blood Glucose Monitor এবং Contour Plus One


    এই যন্ত্রগুলো দ্রুত এবং নির্ভুল ফলাফল দিতে পারে, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য দৈনিক রক্তের গ্লুকোজ পরিমাণ পর্যবেক্ষণে সহায়ক হয়। কিছু উন্নত মডেলে অ্যাপ সংযোগের সুবিধা, মেমোরি অপশন এবং রিমাইন্ডার ফিচারও থাকে, যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণকে সহজ করে তোলে।


    আরো পড়ুন: হার্টের রিং পরানোর খরচ কত? সাথে এনজিওগ্রামের খরচও জানুন


    ডায়াবেটিস মাপার মেশিনের ব্যবহার

    ডায়াবেটিস মাপার মেশিন ব্যবহার করা খুবই সহজ এবং কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করা যায়
    প্রথমে গ্লুকোমিটার চালু করে স্ট্রিপ ইনসার্ট করতে হয়। এরপর আঙুলের প্যাডে ল্যান্সেট দিয়ে হালকা পাঞ্চ করে রক্তের ফোঁটা স্ট্রিপের ওপর রাখতে হয়। মেশিনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ করে মাত্র ৫ সেকেন্ডের মধ্যে রেজাল্ট দেখায়। কিছু উন্নত মডেলে মেমোরি ফাংশন থাকে, যা পূর্ববর্তী মাপার ডাটা সংরক্ষণ করে।


    ডায়াবেটিস মাপার মেশিন কোনটি ভালো?

    যদি নির্ভুলতা এবং নির্ভরযোগ্যতার কথা বলা হয়, তাহলে Accu-Chek Active এবং OneTouch Select Simple অন্যতম সেরা। সেরা মানের ডায়াবেটিস মাপার মেশিন গুলোতে কি কি সুবিধা পাওয়া যায় নিচে দেখুন

    • মাত্র ৫ সেকেন্ডে রেজাল্ট দেয়
    • কম রক্তের প্রয়োজন হয় (প্রায় ০.৫ মাইক্রোলিটার)।
    • স্মার্ট মেমোরি ফাংশন রয়েছে, যা পূর্বের রেজাল্ট সংরক্ষণ করে।
    • ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী এবং সহজেই পরিবর্তনযোগ্য।

      যারা ব্লুটুথ ও মোবাইল অ্যাপ সংযোগ সুবিধা চান, তাদের জন্য Contour Plus One একটি ভালো অপশন। তবে এই মডেল গুলো বাংলাদেশের বাজারে পাওয়া গেলেও দাম অনেকটাই বেশি পরে তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনারা দেশে বাহির থেকেও নিয়ে আসতে পারবেন।


      ডিজিটাল ডায়াবেটিস মাপার মেশিনের দাম কত?

      ডিজিটাল গ্লুকোমিটার মেশিনের দাম ২,০০০ থেকে ৬,০০০ টাকা পর্যন্ত। উন্নত ডিজিটাল মডেলগুলোর ক্ষেত্রে, যেমন Bluetooth এবং App Connectivity যুক্ত মডেলগুলোর দাম ৬,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তবে আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী এবং বাজেট অনুযায়ী বাজার থেকে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ডায়াবেটিস মাপার মেশিন কিনতে পারবেন।


      ডায়াবেটিস মাপার কিট

      • রক্তের গ্লুকোজ পরিমাণ মাপার জন্য।
      • রক্তের গ্লুকোজ নির্ণয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
      • আঙুলে হালকা ছিদ্র করে রক্ত বের করার জন্য।
      • এটি একটি লিকুইড যা মেশিনের নির্ভুলতা যাচাই করতে ব্যবহৃত হয়।
      • মেশিনটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা।

        যারা নতুন ব্যবহারকারী, তারা সম্পূর্ণ কিট কিনলে বেশি সুবিধা পাবেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই যে কোন ফার্মেশন থেকে কিনার আগে এই বিষয়গুলো নিয়ে ভালোমতো জেনে তারপরে কেনার সিদ্ধান্ত নিন।


        ডায়াবেটিস মেশিন কোথায় পাওয়া যায়?

        বর্তমানে বাংলাদেশের যে কোন ফার্মেসিতেই এখন ডায়াবেটিস মাপার মেশিন গুলো পাওয়া যায় তবে এক্ষেত্রে যদি আপনি ভালো মানের এবং ডিজিটাল কোয়ালিটি নিতে চান সেক্ষেত্রে একটু শহর পর্যায়ে ফার্মেসীগুলোতে যেতে হবে সেখানে আপনারা ভালো মানের এবং ডিজিটাল ডায়াবেটিস মেশিন গুলো কিনতে পারবেন। অনলাইনে কেনার ক্ষেত্রে কাস্টমার রিভিউ এবং ব্র্যান্ড ভেরিফিকেশন দেখে কেনা ভালো।

        ডায়াবেটিস মাপার হিসাব

        ডায়াবেটিস মাপার সময় রক্তের গ্লুকোজ লেভেল সাধারণত mg/dL (মিলিগ্রাম প্রতি ডেসিলিটার) বা mmol/L (মিলিমোল প্রতি লিটার) এককে প্রকাশ করা হয়। নিচে বিস্তারিতভাবে টেবিলের মাধ্যমে উপস্থাপন করে দেখানো হলো:

        রক্তের গ্লুকোজ লেভেলঅবস্থা
        ৭০-১০০ mg/dLস্বাভাবিক (খালি পেটে)
        ১০০-১২৫ mg/dLপ্রি-ডায়াবেটিস
        ১২৬ mg/dL বা তার বেশিডায়াবেটিস

        এই মাত্রাগুলো সাধারণ নির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তাই অবশ্যই ডায়াবেটিস সম্পর্কিত আরো বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য ভালো ডাক্তারের মাধ্যমে পরামর্শ নিন।


        উপসংহার

        আজকে আমরা ডায়াবেটিস মাপার মেশিন এবং ডায়াবেটিস কিভাবে মাপতে হয় এ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছি আশা করছি এই কন্টেন্টের মাধ্যমে আপনারা ডায়াবেটিস মেশিন সম্পর্কে ধারণা পেয়েছেন।

        একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

        Post a Comment (0)

        নবীনতর পূর্বতন