বর্তমানে বাংলাদেশে ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স পাওয়া অনেকটাই সহজ হয়েছে, এখন অনলাইনে আবেদন করার মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে। বৈদ্যুতিক কাজ করতে চাইলে সরকারি অনুমোদিত লাইসেন্স থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি না থাকলে আইনগত সমস্যায় পড়তে হতে পারে এবং বৈধভাবে কাজ করা ও যাবে না।
আজকে আমরা যা যা জানতে পারবো:
- ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স কী?
- অনলাইনে আবেদন করার নিয়ম।
- আবশ্যকযোগ্য যোগ্যতা ও কাগজপত্র।
- আবেদনের খরচ ও লাইসেন্স নবায়ন প্রক্রিয়া।
- লাইসেন্সের সুবিধা ও বৈধতার সময়সীমা।
ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স কী?
ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স হলো সরকারি অনুমোদিত একটি সনদ, যা একজন ইলেকট্রিশিয়ানকে বৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ, মেরামত এবং ওয়ারিং এর কাজ করার অনুমতি দেয়। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BERC) কর্তৃক এই লাইসেন্স প্রদান করা হয়।
আরো পড়ুন: সরকারিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার উপায় কম খরচে
ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স থাকার সুবিধা:
- বৈধভাবে ইলেকট্রিক্যাল কাজ করার অনুমতি।
- সরকারি ও বেসরকারি চাকরির জন্য প্রয়োজনীয়।
- বিদেশে কাজের জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
- আইনি জটিলতা থেকে মুক্তি।
- ইলেকট্রিশিয়ান কাজে অভিজ্ঞ তার প্রমাণ।
ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্সের ধরন
- A গ্রেড লাইসেন্স: উচ্চ পর্যায়ের ইলেকট্রিশিয়ানদের জন্য, যারা বড় প্রকল্পের কাজ করতে পারবে।
- B গ্রেড লাইসেন্স: সাধারণ ইলেকট্রিশিয়ানদের জন্য, যারা বাড়ি, অফিস ও ছোট প্রকল্পে কাজ করতে পারবে।
- C গ্রেড লাইসেন্স: শিক্ষানবিশ বা নতুন ইলেকট্রিশিয়ানদের জন্য, যারা অভিজ্ঞতার জন্য কাজ শিখছেন শুধু তাদের জন্য।
ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স অনলাইন আবেদন ২০২৫
ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স আবেদন প্রক্রিয়া:
ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান ➜ BPDB বা BERC
ধাপ ২: "লাইসেন্স আবেদন" অপশনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র আপলোড করুন।
ধাপ ৪: আবেদন ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন।
ধাপ ৫: ফরম সাবমিট করে প্রাপ্তি স্বীকার সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ৬: কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাই শেষে লাইসেন্স ইস্যু হবে।
- লাইসেন্স অনুমোদনের সময়: ১৫-৩০ কার্যদিবস।
- অনুমোদিত লাইসেন্স ডাউনলোড: BPDB/BERC ওয়েবসাইট থেকে।
লাইসেন্সের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা
ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স পেতে হলে অবশ্যই নিচের দেওয়া নির্দিষ্ট যোগ্যতাগুলো অবশ্যই থাকতে হবে:
- বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর।
- শিক্ষাগত যোগ্যতা অন্তত এসএসসি বা সমমান।
- প্রশিক্ষণ সরকার অনুমোদিত টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট বা পলিটেকনিক থেকে ইলেকট্রিশিয়ান কোর্স।
- B গ্রেডের জন্য অন্তত ১-৩ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স এর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)।
- প্রশিক্ষণ সনদপত্র (সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের)
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি (২-৪ কপি)
- কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ (যদি থাকে)
- চেয়ারম্যান কর্তৃক সত্যায়িত সনদ।
ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স ফি ও নবায়ন খরচ
ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার জন্য নির্দিষ্ট ফি পরিশোধ করতে হয়।
নতুন লাইসেন্স আবেদন ফি:
লাইসেন্স ধরন | ফি (টাকা) |
---|---|
A গ্রেড | ৫,০০০ - ১০,০০০ |
B গ্রেড | ৩,০০০ - ৭,০০০ |
C গ্রেড | ১,০০০ - ৩,০০০ |
ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স নবায়ন ফি (প্রতি বছর):
- A গ্রেড: ৩,০০০ - ৫,০০০ টাকা।
- B গ্রেড: ২,০০০ - ৩,৫০০ টাকা।
- C গ্রেড: ১,০০০ - ২,৫০০ টাকা।
লাইসেন্স সংক্রান্ত তথ্য
- লাইসেন্সের মেয়াদ: ১ - ৩ বছর (এরপর নবায়ন করতে হয়)
- লাইসেন্স হারিয়ে গেলে: পুনরায় অনলাইনে আবেদন করে ডুপ্লিকেট লাইসেন্স নিতে পারবেন
- বিদেশে বৈধতা: সরকার অনুমোদিত লাইসেন্স থাকলে বিদেশে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজের সুযোগ বেশি পাবেন।
- দেশে কাজ করার জন্য ইলেকট্রিক লাইসেন্স এর প্রয়োজন আছে।
উপসংহার
বাংলাদেশে ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স পাওয়ার প্রক্রিয়া আগর তুলনায় এখন অনেকটাই সহজ এবং অনলাইন ভিত্তিক আবেদন করা যাচ্ছে। যারা ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে বৈধভাবে কাজ করতে চান, তাদের অবশ্যই লাইসেন্স গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরী।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন